এমএস ধোনির উপস্থিতিতে কোচের অভাব? চেন্নাই সুপার কিংসে বড় সংকট
Contents
চেন্নাই সুপার কিংসে ধোনি ফ্যাক্টর: কোচরা কেন মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন?
আইপিএল ২০২৬ মৌসুমটি চেন্নাই সুপার কিংসের (সিএসকে) জন্য ছিল চরম হতাশার। ১৪টি লিগ ম্যাচ খেলে প্লে-অফে উঠতে ব্যর্থ হয়েছে হলুদ জার্সিধারীরা। টুর্নামেন্টের পয়েন্ট টেবিলের নিচের অর্ধে থেকে মৌসুম শেষ করার পর থেকেই গুঞ্জন উঠেছে যে, দল পরিচালনায় আমূল পরিবর্তন আনতে পারে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। কিন্তু এই পরিবর্তনের পথে সবচেয়ে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছেন সাবেক অধিনায়ক এমএস ধোনি।
কেন কোচরা সিএসকে থেকে দূরে থাকছেন?
একটি নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বেশ কয়েকজন নামী কোচ চেন্নাইয়ের হেড কোচের দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এর মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে দলের অন্দরমহলে এমএস ধোনির প্রবল উপস্থিতি। অনেক কোচই আশঙ্কা করছেন যে, ধোনি যদি দলের সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তবে মাঠের বাইরের দৈনন্দিন কার্যক্রমে তাদের নিয়ন্ত্রণ বা কর্তৃত্ব কতটুকু বজায় থাকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
প্রতিবেদনটিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত বছর এক নামী ভারতীয় কোচকে এই পদের জন্য যোগাযোগ করা হয়েছিল, কিন্তু তাকে অপেক্ষা করতে বলা হয়। এমনকি অন্য একজন সম্ভাব্য প্রার্থী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, যতক্ষণ পর্যন্ত এমএস ধোনি দলের সঙ্গে থাকবেন, ততক্ষণ তিনি এই চাকরির জন্য আবেদন করবেন না।
ব্যর্থতার বৃত্তে সিএসকে
২০২৩ সালে পঞ্চম আইপিএল শিরোপা জয়ের পর থেকেই সিএসকে-এর পারফরম্যান্সে ভাটা পড়েছে। টানা তিন বছর ধরে তারা শেষ চারে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। রুতুরাজ গায়কোয়াড়ের নেতৃত্বে ২০২৪ এবং ২০২৬ সালে সিএসকে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি। এর মধ্যে ২০২৫ সালে ইনজুরির কারণে গায়কোয়াড় এবং ধোনি ভাগাভাগি করে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, যা দলের ভারসাম্যেও প্রভাব ফেলেছিল।
স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত
২০০৮ সাল থেকে চেন্নাই সুপার কিংসের অবিচ্ছেদ্য অংশ স্টিফেন ফ্লেমিং। প্রথমে খেলোয়াড় হিসেবে এবং পরে প্রধান কোচ হিসেবে তিনি সিএসকে-কে পাঁচটি শিরোপা জিতিয়েছেন। তবে সাম্প্রতিক ব্যর্থতার কারণে তার কোচিং দক্ষতা এখন প্রশ্নের মুখে। শোনা যাচ্ছে, মালিকপক্ষ কোচ পরিবর্তনের কথা ভাবলে প্রথমেই ফ্লেমিংয়ের নাম আসতে পারে। তবে ফ্লেমিংয়ের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এমএস ধোনির ভবিষ্যৎ নিশ্চিত হওয়ার পরেই। আইপিএলের বাইরে অন্য লিগে ফ্লেমিংয়ের কোচিং সাফল্যের অভাবও ফ্র্যাঞ্চাইজিটিকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।
এমএস ধোনির অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ
এই মৌসুমে চোটের কারণে ধোনি নিজেকে সেভাবে মেলে ধরতে পারেননি। বাছুর এবং বুড়ো আঙুলের চোটের কারণে তিনি নিয়মিত খেলতে পারেননি। শোনা যাচ্ছে, তিনি চিপক স্টেডিয়ামে দর্শকদের সামনে মাঠ থেকে বিদায় নিতে চান, যা তাকে ২০২৭ সালেও খেলার সিদ্ধান্ত নিতে উদ্বুদ্ধ করতে পারে। তবে কিছু সূত্রের খবর, ফ্র্যাঞ্চাইজির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে ধোনির সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে, যার ফলে আগামী মৌসুমে তাকে আদৌ দলের আশেপাশে দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে ঘোর সংশয় তৈরি হয়েছে।
উপসংহার
চেন্নাই সুপার কিংস বর্তমানে এক কঠিন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। দলের সাফল্যের জন্য নতুন কোচ ও নতুন কৌশল প্রয়োজন। কিন্তু ধোনির মতো আইকনিক ব্যক্তিত্বের ছায়া থেকে বেরিয়ে নতুন কোনো কোচ নিজের পরিকল্পনা অনুযায়ী দলকে সাজাতে পারবেন কি না, সেটাই এখন কোটি টাকার প্রশ্ন। সিএসকে সমর্থকরা তাকিয়ে আছেন ফ্র্যাঞ্চাইজির পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে, কারণ ধোনি অধ্যায়ের সমাপ্তি কিংবা নতুন রূপান্তর—উভয়ই দলটির ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।