Cricket News

নারী ক্রিকেটের প্রসারে বড় সিদ্ধান্ত নিল আইসিসি: নতুন উচ্চতায় উইমেনস এমার্জিং নেশনস ট্রফি

Arthur Sethi · · 1 min read

নারী ক্রিকেটের সোনালী অধ্যায়: আইসিসির নতুন উদ্যোগ

গত এক দশকে নারী ক্রিকেটের চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। নিয়মিত আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন এবং বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার কারণে নারী ক্রিকেট এখন এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। ২০২৫ সালের নারী ক্রিকেট বিশ্বকাপ ছিল এর প্রত্যক্ষ প্রমাণ। ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্ট বিশ্বজুড়ে যে অভূতপূর্ব দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে, তা প্রমাণ করে যে নারীদের খেলা এখন আর অবহেলার বস্তু নয়। এই সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ, ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) নারী ক্রিকেটের প্রসারে এক বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

জয় শাহের নেতৃত্বে নারী ক্রিকেটের আমূল পরিবর্তন

আইসিসি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই জয় শাহ নারী ক্রিকেটের উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তার নেতৃত্বে আইসিসি নারী ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে বেশ কিছু সাহসী ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে অন্যতম প্রধান সিদ্ধান্ত হলো ‘উইমেনস এমার্জিং নেশনস ট্রফি’-র পরিসর বৃদ্ধি করা। গত বছর শুরু হওয়া এই টুর্নামেন্টটি এবার আরও বড় আঙ্গিকে অনুষ্ঠিত হবে।

বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত আইসিসির চিফ এক্সিকিউটিভস কমিটির ভার্চুয়াল সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই প্রতিযোগিতায় মোট ১০টি দল অংশগ্রহণ করবে। এর মধ্যে পাঁচটি সহযোগী সদস্য দেশ এবং পাঁচটি টেস্ট খেলুড়ে দেশ রয়েছে। নেদারল্যান্ডস, স্কটল্যান্ড, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং পাপুয়া নিউগিনি থাকবে সহযোগী দেশ হিসেবে। অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, জিম্বাবুয়ে এবং আয়ারল্যান্ড এই টুর্নামেন্টে টেস্ট খেলুড়ে দেশ হিসেবে অংশ নেবে।

রাজস্ব বৃদ্ধি ও নারী ক্রিকেটে বিনিয়োগ

দীর্ঘদিন ধরে নারী ক্রিকেটকে পুরুষ ক্রিকেটের ছায়ায় রাখা হলেও বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। আইসিসি এখন নারী ক্রিকেট থেকে অন্তত ১০০ মিলিয়ন ডলার রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। ২০২৫ সালের নারী বিশ্বকাপ ছিল এর একটি বড় উদাহরণ, যেখানে মোট প্রাইজমানি হিসেবে রেকর্ড ১৩.৮৮ মিলিয়ন ডলার (১২৩ কোটি টাকারও বেশি) প্রদান করা হয়েছে। এটি ২০২২ সালের বিশ্বকাপের তুলনায় ২৯৭ শতাংশ বেশি এবং এমনকি ২০২৩ সালের পুরুষদের বিশ্বকাপের মোট প্রাইজমানিকেও ছাপিয়ে গেছে। এই বিশাল বিনিয়োগ প্রমাণ করে যে আইসিসি নারী ক্রিকেটের বাণিজ্যিক সম্ভাবনাকে গুরুত্বের সাথে দেখছে।

READ:  পাকিস্তান সুপার লিগ: বাবর আজমের শতকে অনুরাগীরা অবাক

উইমেনস এমার্জিং নেশনস ট্রফির যাত্রা

গত বছর ২০ থেকে ৩০ নভেম্বর ব্যাংককে অনুষ্ঠিত হয়েছিল উইমেনস এমার্জিং নেশনস ট্রফির উদ্বোধনী আসর। সেই টুর্নামেন্টে স্বাগতিক থাইল্যান্ড ছাড়াও স্কটল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, সংযুক্ত আরব আমিরাত, পাপুয়া নিউগিনি, নামিবিয়া, উগান্ডা এবং তাঞ্জানিয়া অংশগ্রহণ করেছিল। সেমিফাইনালে থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, স্কটল্যান্ড এবং নেদারল্যান্ডস জায়গা করে নিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত নেট রান রেটের ভিত্তিতে স্বাগতিক থাইল্যান্ডকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই এবার প্রতিযোগিতার কলেবর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইসিসি।

পুরুষদের টেস্ট ক্রিকেট এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

সাম্প্রতিক আইসিসি মিটিংয়ে নারী ক্রিকেটের উন্নতি নিয়ে আলোচনা প্রাধান্য পেলেও পুরুষদের টেস্ট ক্রিকেটের কাঠামো নিয়ে কোনো বড় সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়নি। ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (WTC) পুনর্গঠন বা দুই স্তরের টেস্ট সিস্টেম চালু করার বিষয়টি এখনো আলোচনার টেবিলেই রয়েছে। ক্রিকেট বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ক্রিকবাজের তথ্য অনুযায়ী, এই বিষয়টি আইসিসি বোর্ডের বিবেচনার জন্য রাখা হয়েছে এবং আগামী ৩০ মে আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিতব্য পরবর্তী বৈঠকে এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে।

পরিশেষে বলা যায়, নারী ক্রিকেট এখন আর কেবল একটি শাখা নয়, বরং বিশ্ব ক্রিকেটের মূলধারার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠছে। আইসিসির সাম্প্রতিক এই পদক্ষেপগুলো আগামী দিনে নারী ক্রিকেটারদের জন্য আরও বড় মঞ্চ তৈরি করবে এবং বিশ্বজুড়ে নারী ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।