এমএস ধোনি কি রুতুরাজ গায়কোয়াড়কে অধিনায়ক চাননি? চমকপ্রদ দাবি!
এমএস ধোনি রুতুরাজ গায়কোয়াড়কে অধিনায়ক হিসেবে চাননি? চমকে দেওয়া দাবি সামনে এলো!
ক্রিকেট মহলে সবসময়ই আলোচনার কেন্দ্রে থাকেন কিংবদন্তি মহেন্দ্র সিং ধোনি। চেন্নাই সুপার কিংসের (সিএসকে) নেতৃত্ব রুতুরাজ গায়কোয়াড়ের হাতে তুলে দেওয়ার পর থেকেই এই নিয়ে নানা জল্পনা চলছে। সম্প্রতি, সিএসকে-র প্রাক্তন ব্যাটসম্যান এবং ধোনির একসময়ের সতীর্থ সুব্রামানিয়াম বদ্রিনাথ এই বিষয়ে এক বিস্ফোরক দাবি করেছেন, যা আইপিএল ও ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। বদ্রিনাথ প্রশ্ন তুলেছেন, ধোনি কি সত্যিই রুতুরাজকে তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে চেয়েছিলেন? নাকি তাঁর পছন্দ ছিল অন্য কেউ?
ধোনির অধিনায়কত্বের সিদ্ধান্ত এবং বদ্রিনাথের প্রশ্ন
সুব্রামানিয়াম বদ্রিনাথের মতে, ধোনি রুতুরাজ গায়কোয়াড়ের বদলে রবীন্দ্র জাদেজাকে সিএসকে-র পরবর্তী অধিনায়ক হিসেবে বেছে নিতে পারতেন। এই দাবি নিঃসন্দেহে সিএসকে ভক্ত এবং ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বদ্রিনাথ বলেন, “কেউই জানে না এমএস ধোনি রুতুরাজ গায়কোয়াড়কে অধিনায়ক করতে চেয়েছিলেন কিনা। এই সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই ধোনির একার হতে পারে না। এটি অবশ্যই ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্ত ছিল। ধোনি হয়তো শুধুমাত্র একটি পরামর্শ দিতে পারতেন।” তাঁর এই মন্তব্য সিএসকে-র অভ্যন্তরের ক্ষমতা কাঠামো এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
আইপিএল ২০২৬-এর পয়েন্ট টেবিলের দিকে তাকালে দেখা যায়, চেন্নাই সুপার কিংস বর্তমানে সপ্তম স্থানে রয়েছে, এই মৌসুমে তাদের ছয়টি জয় রয়েছে। প্লে-অফের চূড়ান্ত স্থানের জন্য তাদের হাতে আর মাত্র একটি ম্যাচ বাকি এবং তারা এখনও ক্ষীণভাবে লড়াইয়ে টিকে আছে। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দলের পারফরম্যান্স এবং অধিনায়কত্ব নিয়ে এই ধরনের মন্তব্য নিঃসন্দেহে দলের উপর চাপ বাড়াতে পারে।
ধোনির রহস্যময় অনুপস্থিতি এবং জল্পনা
এই মৌসুমে এমএস ধোনি প্রতিযোগিতার অধিকাংশ সময়ই মাঠে অনুপস্থিত ছিলেন। রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে সিএসকে-র ম্যাচে তিনি উপস্থিত থাকলেও খেলার একাদশে তাকে দেখা যায়নি। তার অনুপস্থিতির কারণ এখনও পর্যন্ত ভক্তদের কাছে অজানা রয়ে গেছে, যা আরও জল্পনার জন্ম দিয়েছে। বদ্রিনাথ এই পরিস্থিতি নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
ধোনির অনুপস্থিতির পেছনে বেশ কিছু কারণ উঠে এসেছে। মৌসুমের শুরুতে তাকে কাফ ইনজুরির কারণে বাদ দেওয়া হয়েছিল, এবং পরে মৌসুমের মাঝপথে তিনি আঙুলের আঘাত পান। তবে, তার শারীরিক সুস্থতা সত্ত্বেও তিনি ‘মেন ইন ইয়েলো’র একাদশে জায়গা পাননি, যা অনেককে বিস্মিত করেছে। বদ্রিনাথ এই পরিস্থিতিকে “ভালোভাবে সামলানো হয়নি” বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “প্রতিটি ম্যাচের আগে সে খেলবে কি খেলবে না তা নিয়ে সবসময় প্রশ্ন থাকে। ধোনির পুরো পরিস্থিতি ভালোভাবে সামলানো হয়নি। কেউই কারণ জানে না। এটি কি শুধু ম্যাচে আগ্রহ তৈরি করার জন্য, নাকি একটি ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত? এটিও কি প্রক্রিয়ার অংশ?” এই প্রশ্নগুলো সিএসকে ম্যানেজমেন্টের স্বচ্ছতা এবং যোগাযোগ পদ্ধতির উপর গুরুতর প্রশ্নচিহ্ন দাঁড় করিয়ে দেয়।
অধিনায়কত্ব: ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্ত বনাম ধোনির পরামর্শ
রুতুরাজ গায়কোয়াড়কে দলের অধিনায়ক হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছিল এমএস ধোনি নেতৃত্ব ছাড়ার পর। বদ্রিনাথ দৃঢ়ভাবে বলেছেন যে সিএসকে ম্যানেজমেন্ট এই সিদ্ধান্তের জন্য প্রবীণ তারকা এমএস ধোনিকে দোষারোপ করতে পারে না। তিনি মনে করেন, ধোনি হয়তো একটি পরামর্শ দিতে পারতেন, কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ম্যানেজমেন্টেরই ছিল। “ধোনিকে জানার পর, যদি তার এই বিষয়ে কোনো ভূমিকা থাকত, তাহলে তিনি কেবল রবীন্দ্র জাদেজাকেই পরবর্তী অধিনায়ক হিসেবে সুপারিশ করতেন,” বদ্রিনাথ এই কথা জোর দিয়ে বলেন। এই মন্তব্য জাদেজার প্রতি ধোনির আস্থা এবং দলের মধ্যে তার দীর্ঘদিনের অবদানের গুরুত্ব তুলে ধরে। জাদেজা অতীতেও সিএসকে-র অধিনায়কত্ব করেছেন, যদিও সেই মেয়াদ খুব সংক্ষিপ্ত ছিল। বদ্রিনাথের দাবি, ধোনি জাদেজাকে আরও একবার সুযোগ দিতে চাইতেন।
সিএসকে-র নিলাম কৌশল এবং খেলোয়াড় নির্বাচন নিয়ে বদ্রিনাথের হতাশা
সুব্রামানিয়াম বদ্রিনাথ সিএসকে-র গত কয়েক মৌসুমের দুর্বল সিদ্ধান্ত এবং নিলাম কৌশল নিয়েও চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন, যার মধ্যে মেগা-নিলাম এবং মিনি-নিলাম উভয়ই অন্তর্ভুক্ত। খেলোয়াড়দের চুক্তিবদ্ধ করার বিষয়েও বদ্রিনাথ অসন্তুষ্ট ছিলেন এবং এটিকে হতাশাজনক বলে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, সিএসকে-র খেলোয়াড় বাছাই প্রক্রিয়াতে পরিকল্পনা এবং দূরদর্শিতার অভাব রয়েছে।
“এমনকি ব্রেভিস, মহাত্রে এবং উরভিল প্যাটেলের মতো খেলোয়াড়রাও প্রতিস্থাপন খেলোয়াড় হিসেবে এসেছিলেন। সিএসকে তাদের নিয়ে কেবল ভাগ্যক্রমে সফল হয়েছিল। এমন নয় যে তারা তাদের আনার জন্য কোনো পরিকল্পনা বা প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছিল,” তিনি বলেন। বদ্রিনাথ জোর দিয়ে বলেন যে, কিছু খেলোয়াড় অপ্রত্যাশিতভাবে ভালো ফল দিলেও, তা দলের সুচিন্তিত পরিকল্পনার ফল ছিল না, বরং নিছকই সৌভাগ্য। এটি সিএসকে-র দীর্ঘমেয়াদী খেলোয়াড় উন্নয়ন এবং অধিগ্রহণ কৌশল নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উত্থাপন করে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “সঞ্জু স্যামসনের মতো একজন ভালো খেলোয়াড়ও ট্রেডের মাধ্যমে এসেছিলেন, যেখানে তাদের জাদেজা এবং স্যাম কারানকে ছেড়ে দিতে হয়েছিল। সুতরাং, তাদের এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেই যা এককভাবে সফল হয়েছে।” এই মন্তব্য সিএসকে-র ট্রেডিং সিদ্ধান্ত এবং খেলোয়াড়দের ধরে রাখার নীতি নিয়েও প্রশ্ন তোলে। বদ্রিনাথের মতে, দলের সিদ্ধান্তগুলি সমন্বিতভাবে কাজ করেনি এবং তাদের নিলামের ব্যর্থতা দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলেছে। একটি সফল ফ্র্যাঞ্চাইজি হিসেবে সিএসকে-র পরিচিতি থাকলেও, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে তাদের খেলোয়াড় নির্বাচন এবং দল গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে এই ধরনের সমালোচনা নিঃসন্দেহে চিন্তার কারণ। বদ্রিনাথের এই মন্তব্যগুলি সিএসকে ম্যানেজমেন্টের জন্য একটি গুরুতর সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করতে পারে, যাতে তারা ভবিষ্যতে আরও সুচিন্তিত এবং কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এই বিতর্ক সিএসকে-র আগামী আইপিএল মৌসুমে তাদের কৌশল এবং নেতৃত্ব নিয়ে আরও গভীর আলোচনার জন্ম দেবে।